বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে শিশু–কিশোরদের মধ্যে স্পিচ ডিলে, মনোযোগের ঘাটতি এবং বিভিন্ন ধরনের মানসিক বিকাশজনিত সমস্যার হার বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ হলো অল্প বয়সে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার ও স্ক্রিন আসক্তি। দীর্ঘ সময় মোবাইলের পর্দায় ডুবে থাকার ফলে শিশুদের স্বাভাবিক সামাজিক যোগাযোগ, ভাষা শেখা এবং সৃজনশীল বিকাশ ব্যাহত হয়।
এই পরিস্থিতিতে চারুকলা বা ছবি আঁকা শিশুদের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। ছবি আঁকা শিশুদের কল্পনাশক্তি বাড়ায়, মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে এবং তাদের অনুভূতি প্রকাশের একটি সুন্দর মাধ্যম তৈরি করে। যখন একটি শিশু রং, রেখা ও আকারের মাধ্যমে নিজের ভাবনা প্রকাশ করে, তখন তার মস্তিষ্কের সৃজনশীল অংশ সক্রিয় হয় এবং মানসিক বিকাশ ত্বরান্বিত হয়।
এছাড়া চারুকলার চর্চা শিশুদের ধৈর্য, একাগ্রতা এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। দলগতভাবে আঁকা বা শিল্পচর্চা করলে তাদের সামাজিক যোগাযোগ দক্ষতাও উন্নত হয়, যা ভাষা বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের হাতে সব সময় মোবাইল তুলে না দিয়ে রং, কাগজ, তুলি বা অন্যান্য সৃজনশীল উপকরণ তুলে দেওয়া। এতে শিশুদের অবসর সময় হবে আনন্দময় ও শিক্ষণীয়।
মনে রাখতে হবে—সারা জীবন সম্পদ সঞ্চয় করার চেয়ে সন্তানকে মানবসম্পদে রূপান্তর করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আজকের শিশুই আগামী দিনের সমাজ, দেশ ও ভবিষ্যৎ গড়ার মূল শক্তি। তাই প্রযুক্তির অপব্যবহার থেকে দূরে রেখে সৃজনশীলতার পথে শিশুদের এগিয়ে নেওয়াই হতে পারে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের ভিত্তি।

0 Comments