Habiganj Charukola Academy হবিগঞ্জ চারুকলা একাডেমি

Habiganj Charukola Academy হবিগঞ্জ চারুকলা একাডেমি
✅ Greetings From The most prominent art school in Habiganj Charukola Academy. Geographically, it is in the center of Habiganj Sodar.

শিশুদের মেধা ও মননের বিকাশের লক্ষ্যে মৌলিক পাঠদানের পাশাপাশি সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম যেমন- চারুকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চার সুযোগ করে দেয়া আমাদের দায়িত্ব।


কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ, পাকলে করে ঠাস ঠাস। বাঁশকে যেমন কাঁচা অবস্থাতেই বাঁকানো যায় তেমনি পেকে গেলে শক্ত বাঁশকে সহজে বাঁকানো যায়না।




শিশুরাও অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং নরম মনের। রাষ্ট্রের দক্ষ জনসম্পদ গঠন, জাতীয় উন্নয়ন, প্রগতিশীল ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের মূলভিত্তি হলো প্রাথমিক শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা একটি শিশুর জীবনে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও আজীবন শিখনের ভিত্তি তৈরি এবং আনুষ্ঠানিক শিক্ষার প্রথম সোপান ও প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করে। প্রাথমিক শিক্ষার মূল কাজ হলো শিশুর সহজাত সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে জ্ঞানভিত্তিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শারীরিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা। আর এই শিক্ষা গ্রহণে শিশু যদি আনন্দ না পায়, তাহলে প্রাথমিক শিক্ষার যে মূল উদ্দেশ্য তা ব্যাহত হবে। শিশুদের মেধা ও মননের বিকাশের লক্ষ্যে মৌলিক পাঠদানের পাশাপাশি সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম যেমন- চারুকলা, কারুকলা, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, বই পড়া, লেখালেখি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চার সুযোগ করে দেয়া আমাদের দায়িত্ব।



শিশুর মানসিক বিকাশে এই সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমের মধ্যে ছবি আঁকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শৈশবে যদি ছবি আঁকার সুযোগ পায়, তাহলে শিশুরা ধীশক্তিমান ও মেধাবী হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পচর্চার মাধ্যমে শিশুদের সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শিশুর মেধা বিকাশে রঙের গুরুত্ব অপরিসীম। শিশু যখন বিভিন্ন রঙ এবং ফর্ম দিয়ে শিল্পচর্চার সুযোগ পায়, তখন তার সৃজনশীলতাও বৃদ্ধি পায়। সে অসাধারণভাবে ভাবতে ও চিন্তা করতে শেখে, যা তাকে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে শেখায় এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে সে তখন সহজেই সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। শিশুরা শুদ্ধ, সুন্দর, ও নির্মল স্বপ্নের আলোকিত আগামী। তাই উপযুক্ত পরিবেশে শিশুর বেড়ে ওঠা প্রয়োজন যেখানে শিশু নিজেকে নিজের মতো করে তৈরি করার সুযোগ পায়। প্রতিটি শিশুই সম্ভাবনাময় এবং তাদের মনের সীমানা আকাশ। তাই শিশুর শেখার ধরণ বুঝে তার ধারণক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষা দিতে হবে। তাহলে সে শিশু একদিন কালজয়ী মানুষে পরিণত হতে পারবে।





শিশুর সামর্থ্য ও শক্তিগুলোর স্বাভাবিক ও সুষম বিকাশই হলো শিক্ষার লক্ষ্য। আর শিশুর যথাযথ বিকাশ নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজন আনন্দময় পরিবেশ। এ ধরণের আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টির জন্য নান্দনিক শিক্ষার সুযোগ করে দিতে হবে। তাদেরকে খেলতে খেলতে, ছবি আঁকতে আঁকতে এবং গাইতে গাইতে শিখার সুযোগ করে দিতে হবে।




এধরণের সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলীর মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে অন্যান্য বিষয় পড়ানোর সময় তাদের অংশগ্রহণ সক্রিয়, প্রাণবন্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে উঠে এবং খুব সহজেই যেকোন বিষয় খুব দ্রুত বাচ্চাদের বুঝানো যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর মানসিক বিকাশে খেলাধুলা, সঙ্গীত, বই পড়া বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং এগুলো খুব সহজ এবং সুন্দর পন্থা। তবে, চিত্রাঙ্কন বা ছবি আঁকা সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে শিশুর মনে।




শিশুদের গতানুগতিক পড়ালেখার পাশাপাশি সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমের উপর গুরুত্ব দেয়া প্রত্যেক মা-বাবার উচিত। প্রকৃতপক্ষে, শিশু সবার আগে শিখে তার পিতা মাতা কিংবা পরিবার থেকেই। তাই সবার আগে পিতা মাতা কিংবা অভিভাবকদেরই শিশুর শারীরিক এবং মানসিক পরিচর্যা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে পরিষ্কার ভাবে। অনেককে দেখা যায় তাঁর লক্ষ্য পূরণে শিশুর রুচি, প্রকৃতি, পছন্দ, ইচ্ছা এবং সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপিয়ে দেন। আসলে আমাদের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সন্তানকে সৎ, আদর্শবান , ভালো মানুষ বানানো ।





তবে একটা আশার বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে বেশিরভাগ অভিভাবকদের মধ্যে বাচ্চাদের ছবি আঁকা শেখানোর বেশ আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে জেলা, উপজেলা শহরগুলোতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বেশকিছু প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে/স্কুলে সংগীত, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, ছবি আঁকা শেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে। আর মা বাবারাও বাচ্চাদের সেসব আর্ট স্কুলে ভর্তি করিয়ে তাদের ছবি আঁকা কিম্বা অন্যান্য বিষয়গুলো শেখানোর ব্যবস্থা করেন। ছবি আঁকার স্কুলে ভর্তি করানোর উদ্দেশ্য কিন্তু শিশুকে লিওনার্দো-দা- ভিঞ্চি কিংবা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন বানানো না।

প্রত্যেক শিশু্র মানসিক বিকাশের জন্যই ছবি আঁকা শেখানো উচিত।
প্রকৃতির রূপ, রঙ ও রস প্রতিটি মানুষকেই টানে। তেমনটি টানে শিশুদেরকেও। প্রকৃতির মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন আকার, আকৃতি, ফর্ম ও রং শিশুকে আকর্ষণ করে অনেক বেশি। যেমনটা আগেই বলেছি, তারা নতুন কিছু খুঁজতে পছন্দ করে। এক্ষেত্রে নানান আকার, আকৃতি ও রঙের মিশেল তাদেরকে আনন্দ দেয়। তাই দেখবেন, পড়ার বইয়ের চেয়ে বিভিন্ন রঙ-বেরঙের কার্টুন, মাছ, লতাপাতা, পশুপাখি, বারবি ডল, টম এন্ড জেরি কার্টুন, মিকিমাউস চরিত্রের ডিজাইনের নতুন ও রঙিন ব্যাগ, খাতা আর রঙ পেন্সিলবক্স, বিভিন্ন আকৃতির স্কেল, রাবার ইত্যাদির প্রতি শিশুদের আগ্রহ থাকে বেশী। এটি শিশুর কোমল মনে স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ তৈরি করে। এরকম নানান আকার, আকৃতি ও রঙ্গিন শিক্ষা উপকরণ শিশুর মনে যেমন আনন্দ, উদ্দীপনা সৃষ্টি করে তেমনি তার মানসিক বিকাশেও সাহায্য করে।
আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষাদানের মাধ্যমে শিশুর প্রতিভা বিকশিত করার ব্যাপারে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষার্থীর মন অত্যন্ত সংবেদনশীল, কোমল, ভীতিপ্রদ এবং সৃজনশীল। একজন আদর্শ শিক্ষকের কাজ শিশুর মনের সব ভীতি দূর করে সৃজনশীল কাজে তাকে সহায়তা করা। গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে বৈচিত্র্যময় শিক্ষার ধারা প্রবর্তন করতে হবে। গতানুগতিক শিক্ষাদানের বাইরে গিয়ে ছবি এঁকে, গান শুনিয়ে, গল্প বলে শিশুদের পাঠে আগ্রহী করে তুলতে হবে। সেজন্য সেসব বিষয়েও তাকে পারদর্শী হতে হবে।




প্রত্যেক শিক্ষককে গান করা, গল্প বলার পাশাপাশি অবশ্যই চারুকলা বিষয়ে দক্ষ হতে হবে, যে মৌলিক বিষয়গুলো তিনি শেখান সেসব বিষয় পদ্ধতিগতভাবে, সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে এবং প্রতিটি বিষয়বস্তুকে চক, মার্কার পেন, পেন্সিল বা ব্রাশ দিয়ে চিত্রিত করার প্রক্রিয়াটিও তাকে স্পষ্টভাবে রপ্ত করতে হবে।






আরও স্পষ্ট করে বলা যায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপকরণ তৈরি, শিশুদের পাঠ–বিষয়ক আলাদা আনন্দ দিতে চারু ও কারুকলা বিষয়ে প্রত্যেক শিক্ষকের জ্ঞান থাকা আবশ্যক। কারণ কথায় আছে একটি ছবি ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে এক হাজার শব্দের চেয়েও বেশী শক্তিশালী। শিশুদের বিভিন্ন ফর্ম, চিত্র কিংবা রঙের প্রতি দুর্বলতা বেশি। আর ফর্ম, আকার, আকৃতি ও চিত্রের মাধ্যমে রঙের খেলা খেলতে খেলতে কঠিন বিষয়গুলোও সহজ করে দেওয়া যায়।

 লেখক: অন্‌জন দাশ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার,রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)

✅ হবিগঞ্জে একমাত্র পূর্ণাঙ্গ চারুশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হবিগঞ্জ চারুকলা একাডেমি,
সীমিত আসনে ভর্তি চলছে.............

🔴=> বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন :
www.atiedu.com.bd
কালীবাড়ি ক্রস রোড ,হবিগঞ্জ ।
☎️ ০১৭১১ ৯৪২০৬৬ / ০১৭১৩ ৮১৫৩৩৭
📧 charukolacademy@gmail.com









Post a Comment

0 Comments