এক্রেলিক পেইন্টিং কি ও তার কাজ করার প্রক্রিয়া
এক্রাইলিক পেইন্টিং এর মাধ্যমে জানতে পারবে কিভাবে ছবি আঁকার জন্য ক্যানভাস তৈরি করতে হয় , কি কি রং ব্যবহার করা হয়, ছবি আঁকার নিয়ম ও সঠিক কৌশল, জানতে পারবে পেন্টিং কিভাবে সংরক্ষণ করা হয় ।
এক্রেলিক পেইন্টিং এর জন্যে ক্যানভাস হচ্ছে সবচাইতে উৎকৃষ্ট। পনের শতকে যে ক্যানভাসে চিত্র রচনা করা হয়েছে তা আজও পর্যন্ত গুণাগুণ ও অন্যান্য দিক থেকে অক্ষুণ্ণ রয়েছে।ক্যানভাসের পিছন দিকটা বাতাস এবং বাতাসের আর্দ্রাতা থেকে নিজেকে ভালভাবে রক্ষা করতে পারে না। এই বাতাসের আর্দ্রতার কারণে প্রায় সবসময়ই ক্যানভাসের সুতাতে ভেজা এবং শুষ্কজনিত কারণে চিত্রের রঙ ফেটে যাওয়া এবং ক্যানভাসে ব্যবহৃত গ্রাউণ্ড-এর ভিত নরম হয়ে যাওয়ার দেখা দেয়।ক্যানভাসের গ্রাউন্ড তৈরির কাজে জেসো উৎকৃষ্ট। তবে ক্যানভাসে জেসো ব্যবহারের সময় সামান্য দুই এক ফোটা মধু মিশিয়ে নিরে আরও ভাল ফল পাওয়া যায়। ক্যানভাসে খুব পাতলা করে প্রলেপ দেওয়া সবচাইতে উত্তম।
রঙ করার কাজে ব্যবহৃত বিশেষ পদার্থের নামই হচ্ছে পিগমেন্ট। প্রাগৈতিহাসিক যুগে গুহাবাসী মানুষ যে লাল এবং খয়েরী রঙ গুনাগাত্রে ছবি আঁকার কাজে ব্যবহার করেছেন সেই রঙ এখনও কাদামাটি থেকে পাওয়া যায়।গাছগাছড়া ও ফলমূল থেকেও পিগমেন্ট পাওয়া যায়। উদ্ভিদজাত ধূসর নীল থেকে অন্যান্য নীল এবং ম্যাডার লাল রঙ প্রস্তুত করা হয়। ম্যাডার হচ্ছে হলুদাভ ফুলবিশিষ্ট লতাবিশেষের মূল থেকে সৃষ্ট রঙ। আলট্রামেরিন হচ্ছে উজ্জ্বল বিশুদ্ধ নীল রঙ। এই রা সমস্ত নীল রঙয়ের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান। নীলকান্তমণি নামক এক প্রকার পাথর ঘষে আলট্রামেরিন রঙ প্রস্তুত করা হয়। পার্পল বা লাল এবং নীলের সংমিশ্রণে সৃষ্ট গাঢ় রক্তবর্ণ লাল রঙ অত্যন্ত বিখ্যাত এবং গুরুত্বপূর্ণ। পার্পল রঙ শেলফিস বা শক্ত খোলসওয়ালা মাছ থেকে উৎপন্ন করা হয়। রসায়নবিদরাও নানা ধরনের রাসায়নিক পদার্থের দ্বারা পিগমেন্ট তৈরি করে থাকেন।
বর্তমান সময়ে চিত্রকলার ক্ষেত্রে এক্রেলিক রঙই সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই রঙয়ের জন্য মাধ্যম হিসেবে জল ও তেল ব্যবহার করা হয় এবং সার্ফেস হিসেবে ক্যানভাসই জনপ্রিয়। তবে ক্যানভাসের পরিবর্তে অন্যকোন সমতল ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন কাঠের পাটা, কাগজ, বোর্ড ইত্যাদি। এক্রেলিক রঙয়ের বিশেষ সুবিধা হচ্ছে এর অর্দ্রতা দীর্ঘস্থায়ী হয় ও দ্রুত শুকিয়ে যায় । এছাড়া পূর্বে যে রঙ ব্যবহার করা হয় তার উপর পরে যে কোন সময় অন্য রঙ ব্যবহারের সুযোগ থাকে। কিংবা যদি বিষয়ও পরিবর্তন করতে চান কোন শিল্পী তাহলেও তাও করা সম্ভব। এক্রেলিক রঙ ইচ্ছে করলে পাতলা বা হালকাভাবেও ব্যবহার করা যায়। যার মধ্য দিয়ে ক্যানভাসের সুতা বা বুননের বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায়। আবার রঙ অতি ঘনভাবেও ব্যবহার করা যায়। যা ক্যানভাসের সুতাকে বা বুননের বৈশিষ্ট্যকে ঢেকে দিয়ে রঙয়ের প্রাধান্য সৃষ্টি করে থাকে। রঙ মোটা বা ঘন করে ব্যবহার করলে ক্যানভাসে ব্রাশস্ট্রোক বা ব্রাশ চালনার চিহ্ন স্পষ্টরূপে উপভোগ করা যায়। যেমন এস এম সুলতান কিংবা ভ্যানগগসহ বিভিন্ন শিল্পীর চিত্রে লক্ষ করা যায়। আবার রঙ পাতলা করে ব্যবহার করলে ব্রাশস্ট্রোক চিত্রে থাকে না। বেশিরভাগ শিল্পীর চিত্রেই এমনটি লক্ষ করা যায়।




0 Comments