হবিগঞ্জ জেলায় সাধারণ শিক্ষা পদ্ধতিতে হবিগঞ্জ চারুকলা একাডেমি শিশু-কিশোরদের মেধা বিকাশের উপযোগী নতুনমাত্রায় যোগ করার উদ্যোগ। এখানে শিশুরা মনের আনন্দে জানবে, দেখবে, শিখবে ও প্রশ্নকরবে। হবিগঞ্জ চারুকলা একাডেমির লক্ষ্য শিশুদের উদ্ভাবনী মানসিকতা বিকাশ ঘটানোর মাধ্যমে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে বিশ্ব সংস্কৃতির অন্তরঙ্গ সম্মিলন ঘটানো। হবিগঞ্জ চারুকলা একাডেমির পাঠ্যক্রম গড়ে তোলা হয়েছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের পাঠ্যক্রমের আদলে আধুনিক পদ্ধতির ভাল দিকগুলি নিয়ে। শিশু-কিশোরদের কে সৃষ্টিশীল মানসিকতায় আগ্রহী করে তোলা, কারণ কিশোরদের আগ্রহ ছুটে আনন্দের দিকে। গতানুগতিক ধারা এবং প্রতিযোগী নির্ভরতা এড়িয়ে ‘হবিগঞ্জ চারুকলা একাডেমি’ অনুসরণ করে বৈজ্ঞানিক ও গবেষণামূলক আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা।
[চারুকলা একাডেমির শুরুর ইতিহাস]
৮ই মার্চ, ২০১৫ কালীগাছতলার সি.টি.সি ভবনে হবিগঞ্জ চারু ও কারুকলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নামে প্রথমে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে, স্কুলের অবকাঠামোগত পরিবর্তন ও সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে হবিগঞ্জ শহরস্থ কালীবাড়ি ক্রস রোড ‘দত্ত নিকেতনে’ ২০১৯ইং সনে নতুন আঙ্গিকে নাম পরিবর্তন করে‘হবিগঞ্জ চারুকলা একাডেমি’ নবরুপে যাত্রা শুরু করে। প্রায় ৪০ জনের অধিক শিশু-কিশোর নিয়ে চারুকলার পথচলা।
[প্রতিষ্ঠান প্রধানের বক্তব্য]
সাধারন শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদেরকে শিল্প শিক্ষার দিকে মনোযোগী করে তুলতে হবে। শিশু-কিশোরদেরকে যদি মনের মত করে সংস্কৃতযুক্ত শিক্ষা দেয়া যায় তবে শিশু-কিশোরদের ভিতর থেকে প্রকৃত শিক্ষাকে বিকশিত করা সম্ভব। শিশু-কিশোরদের মনে আনন্দ সঞ্চার করতে হবে, প্রশিক্ষকদেরকে হতে হবে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত য়ারা হবে এক-একটি আনন্দের আঁধার।শিশু-কিশোরদের শ্রদ্ধা করতে হবে ও তাদের স্বকিয়তাকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিশু-কিশোরদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। এই মনমানসিকতা নিয়ে আমাদের প্রশিক্ষক কাজ করে যাচ্ছেন। চারুকলার প্রশিক্ষক শিশু-কিশোরদেরকে প্রশিক্ষক নির্ভর করেন না। চারুকলার আনন্দ শিশু-কিশোরদের অন্তর্নিহিত শক্তি হয়ে ওঠে ,দেখতে ও আঁকতে পাড়া এবং অন্যের আঁকা বুঝতে পারা। নানা রকম প্রশ্ন করতে শেখা , সকল উত্তর না মিললে শিশু-কিশোরদেরকে অনুসন্ধান করার জন্যে আগ্রহী করে তোলে। শিশু-কিশোরদের অসীম ক্ষমতাকে কাজে লাগানোর জন্য পরিবেশটাও আনন্দের হওয়া প্রয়োজন অমাদের মূল লক্ষ্য হল শিশু-কিশোরদের আগ্রহটা বাড়িয়ে দেওয়া। শিশু-কিশোরদের সহজাত কৌত‚হল ও আঁকার গল্প বললে তারা ভীষণ বিস্মিত হয়, আর আগ্রহটা যখনই তৈরি হয় তখন তাদের কাজের উৎসাহটা দিলেই আমাদের কাজটা হয়ে যায়। আমরা ফল দেখতে পাচ্ছি- ছোট এসব শিশুরা এমনসব কাজ করছে যা আমরা নিজেরাও তাদের বয়সে করিনি। চারুকলার প্রাথমিক অধ্যয়ন শুরু হয় রং, রেখা ও আকৃতি শেখার মাধ্যমে। যথাসম্ভব রঙিন ও আকর্ষণীয় ছবি সম্বলিত চিত্রের মাধ্যমে শুরু হয় শিশু অংকন পাঠ। আমরা শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশের পাশাপাশি পরিচিত বিষয়বস্তুগুলোকে কল্পনা করে আঁকতে শিখাই, যেন তারা চিত্রের বিবরণ শুনে যা আঁকতে চায় চোখ বন্ধ রেখে কল্পনা কওে তা আঁকতে পারে।
চারুকলার গুরুত্ব বুঝতে আর প্রয়োগ করতে শিশু-কিশোরদেরকে মনোযোগী করে গড়েতুলা প্রয়োজন। ¬¬¬চারুকলার অনুশীল কে কেবল অংকনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ,সৃষ্টিশীল মানসিকতার মানুষ গড়ার লক্ষ্যে চারুকলায় যুক্ত হয়েছে ললিতকলার নানান বিষয় যেমন আঁকা-গড়া, গল্প-কবিতা, খেলাধুলা, আল্পনা, পোট্রেট পেইন্টিং, কোলাস পেইন্টিং, ক্লথ পেইন্টিং , পেন্সিল স্কেচ, নকশা, পাতিল পেইণ্টিং, নকশি কাঁথা, ডিজিটাল পেইণ্টিং, ছাপ চিত্র, টি-শার্ট পেইণ্টিং, মৃত্তিকাÑ ভাস্কর্য, মৌলিক সৌন্দর্যবোধ ও নান্দনিকতা বোধ তৈরি করে থাকে।শিক্ষার্থীদের শেখা ও জানা প্রকৃতির কাছে যাওয়া, মানুষের প্রতি মানবতাবোধ তৈরি করতে উত্তম সমাজ গড়ার লক্ষ্যে প্রায়ই আয়োজন করা হয় “আউটডোর অংকন অনুশীলন ও ওয়ার্কসপ”।
¬শিশুদের অংকনের পাশাপাশি শিক্ষা নিচ্ছেন হবিগঞ্জ চারুকলার প্রশিক্ষকরাও। নিজেদের সর্বদা প্রস্তুত রাখেন নিরন্তন প্রশিক্ষণ দিতে।এই লক্ষ্য বাস্তব করে তুলতে নিরন্তন প্রশিক্ষণ, অধ্যয়ন ও চর্চায় অনুপ্রাণিত করে, এমন প্রশিক্ষক গড়ে তোলার কাজ করে যাচ্ছে হবিগঞ্জ চারুকলা একাডেমি।

0 Comments